বঙ্গবন্ধুর কৃষি বিষয়ক উক্তি

‘‘বইয়ের সঙ্গে সঙ্গে একটু প্রাকটিক্যাল কাজ করতে হবে। প্যান্ট-শার্ট-কোট একটু খুলতে হবে। তা না হলে কৃষিবিপ্লব করা যাবে না। বাংলাদেশে প্যান্ট-শার্ট-কোট ছেড়ে মাঠে না নামলে বিপ্লব করা যাবে না, তা যতই লেখাপড়া করা যাক, তাতে কোনো লাভ হবে না।’’

১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সমাবর্তন উৎসব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়




‘‘খাদ্য বলতে শুধু ধান, চাল, আটা, ময়দা আর ভুট্টাকে বোঝায় না; বরং মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, শাকসবজি এসবকে বোঝায়। সুতরাং কৃষির উন্নতি করতে হলে এসব খাদ্যশস্যের সমন্বিত উৎপাদনে উন্নতি করতে হবে।’’

১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সমাবর্তন উৎসব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়




‘‘আপনারা যারা কৃষি শিক্ষায় শিক্ষিত হচ্ছেন আপনাদের গ্রামে গিয়ে কৃষকের সাথে মিশে যেতে হবে, মনোযোগ দিতে হবে তাদের চাহিদা আর কর্মের ওপর, তবেই তারা সাহসী হবে, আগ্রহী হবে, উন্নতি করবে। ফলবে সোনার ফসল ক্ষেত ভরে। আপনারা এখন শহরমুখো হওয়ার কথা ভুলে যান। গ্রাম উন্নত হলে দেশ উন্নত হবে, তখন আপনারা আপনা-আপনি উন্নত হয়ে যাবেন। গ্রামভিত্তিক বাংলার উন্নতি মানে দেশের উন্নতি, আর আপনাদের উন্নতি তখন সময়ের ব্যাপার। শহরের ভদ্রলোকদের দিকে তাকিয়ে আপনাদের চিন্তা বা আফসোস করার কোনো কারণ নেই। কেননা গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের দিকে আমাদের সবার ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। কৃষক বাঁচাতে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, তা নাহলে বাংলাদেশ বাঁচতে পারবে না।’’

১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সমাবর্তন উৎসব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়




‘‘শুধু কাগজে কলমে আর বই পড়েই কৃষি কাজ হয় না। ছোট ভাইয়েরা তোমরা মনে কিছু করবেনা। বই পড়ে তোমরা যা শিখ, গ্রামে যারা অর্থাৎ বুড়া কৃষকরা নিজের অভিজ্ঞতায় কম শেখেনা। যদি তাদের জিজ্ঞাস কর এই জমিতে কি লাগবে, কত টুকু সার লাগবে, সে নির্ভুল বলে দিতে পারবে। তোমরা ৫ বছরবই পড়ে যা শিখবেনা, তার কাছে দেখ উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাবে। বই-এর সাথে সাথে একটু প্রাকটিক্যাল করতে হবে।’’

১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সমাবর্তন উৎসব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়




‘‘কোন জাতি বেশি দিন টিকতে পারেনা, যদি লক্ষ লক্ষ টন খাবার ভিক্ষা করতে হয়, বিদেশ থেকে আনতে হয়। দুনিয়া ভরে চেষ্ঠা করেও আমি চাল কিনতে পারছিনা। চাল যদি খেতে হয় আপনাদের পয়দা করেই খেতে হবে।’’

১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৩, সমাবর্তন উৎসব, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়




‘‘আমার দেশের এক একর জমিতে যে ফসল হয় জাপানের এক একর জমিতে তার তিনগুণ ফসল হয়। কিন্তু আমার জমি দুনিয়ার সেরা জমি। আমি কেন সেই জমিতে দ্বিগুণ ফসল ফলাতে পারব না, তিনগুণ করতে পারব না ? আমি যদি দ্বিগুণও করতে পারি তাহলে আমাকে খাদ্য কিনতে হবে না। ...আমি চাই বাংলাদেশের প্রত্যেক কৃষক ভাইয়ের কাছে, যারা সত্যিকার কাজ করে, যারা প্যান্টপরা, কাপড়পরা ভদ্রলোক তাদের কাছেও চাই জমিতে যেতে হবে, ডবল ফসল করুন। প্রতিজ্ঞা করুন, আজ থেকে ওই শহীদদের কথা স্মরণ করে ডবল ফসল করতে হবে। যদি ডবল ফসল করতে পারি আমাদের অভাব ইনশাআল্লাহ হবে না।’’

২৬ মার্চ ১৯৭৫, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান





কৃষি উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা ও বর্তমান বাস্তবতা

করোনা পরিস্থিতি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণে এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন তা বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে।

গরিব হিতৈষী বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কৃষকদের দিকে নজর দেন। তিনি গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন কৃষির উন্নতি ছাড়া এ দেশের মানুষের মুক্তি আসতে পারে না। ক্ষুধা নিবারণের জন্য খাদ্যের জোগানদাতাদের বঙ্গবন্ধু তাই সর্বদাই সর্বোচ্চ স্থান দিয়েছেন নিজের মনের মণিকোঠায়। তিনি যেমন তাদের ভালোবেসেছিলেন, তেমন তাদের ভালোবাসাও পেয়েছেন সর্বক্ষণ। কৃষকদের প্রতি ভালোবাসার টান ছিল বলেই তিনি তাদের মঙ্গলের জন্য কাজ করে গেছেন নিবিড়ভাবে। রাজনৈতিক কারণে তিনি দেশের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেড়িয়েছেন আজীবন। তার যাত্রাপথে এগিয়ে এসেছেন বাংলার কৃষকসহ সর্বস্তরের জনগণ। বআর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দেখেছি সর্বক্ষণ কৃষক অন্তঃপ্রাণ বঙ্গবন্ধুকে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনের প্রাক্কালে পাকিস্তান টেলিভিশন ও রেডিও পাকিস্তানে এক ভাষণেও আওয়ামী লীগপ্রধান বঙ্গবন্ধু এ দেশের কৃষক সমাজের অধিকার সংরক্ষণের কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন- ‘এ যাবৎ বাংলায় সোনালি আঁশ পাটের প্রতি সীমাহীন অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়েছে। বৈষম্যমূলক বিনিয়োগ হার এবং পরগাছা ফড়িয়া ব্যাপারীরা পাট চাষিদের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত করছে। পাটের মান উৎপাদন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। পাটের ব্যবসা জাতীয়করণ, পাটের গবেষণার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং পাট উৎপাদনের হার বৃদ্ধি করা সম্ভব হলে জাতীয় অর্থনীতিতে পাট সম্পদ সঠিক ভ‚মিকা পালন করতে পারে।’

১৯৭১ সালের ৩ জানুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক সমাবেশে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর সময় বঙ্গবন্ধু যে ভাষণ দেন তাতে কৃষকদের জন্য অনেক প্রতিশ্রæতি ছিল। সেদিন বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আমার দল ক্ষমতায় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে দেবে। আইয়ুবি আমলে বাস্তুহারা হয়েছে বাংলার মানুষ। সরকারের খাসজমি বণ্টন করা হয়েছে ভুঁড়িওয়ালাদের কাছে। তদন্ত করে এদের কাছ থেকে খাসজমি কেড়ে নিয়ে তা বণ্টন করা হবে বাস্তুহারাদের মাঝে। ভবিষ্যতেও সব খাসজমি বাস্তুহারাদের মধ্যে বণ্টন করা হবে এবং চর এলাকায়ও বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন করা হবে। আমি কৃষক ও শ্রমিকদের কথা দিচ্ছি আওয়ামী লীগ তাদের আদর্শের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবে না।’

স্বাধীন বাংলাদেশে কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে যেসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের বকেয়া খাজনা ও সুদ মওকুফের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিলেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃষি অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, জরুরি ভিত্তিতে বিনামূল্যে ও কয়েকটি ক্ষেত্রে নামমাত্র মূল্যে অধিক কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য ধানবীজ, পাটবীজ ও গমবীজ সরবরাহ করা হয়। দখলদার পাকিস্তানি শাসনকালে রুজু করা ১০ লাখ সার্টিফিকেট মামলা থেকে কৃষকদের মুক্তি দেয়া হয় ও তাদের সব বকেয়া ঋণ সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়। ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা চিরতরে রহিত করা হয়। ধান, পাট, তামাক ও আখসহ গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির লক্ষ্যে ন্যূনতম ন্যায্য মূল্য বেঁধে দেয়া হয়। বঙ্গবন্ধু প্রণীত প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় সামাজিক ন্যায়বিচার ও দারিদ্র্য নিবারণের তাগিদে কৃষি উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের পর্যায়ে আনা হয়। ওই সময় দেশে ভ‚মিহীন কৃষকের সংখ্যা ছিল ৩৫ শতাংশ। বিরাজমান খাসজমির সঙ্গে ভ‚মিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণযোগ্য জমির সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য বঙ্গবন্ধু পরিবার পিছু জমির সিলিং ১০০ বিঘায় নির্ধারণ করে দেন। যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্য স্বাধীন দেশের খাদ্য ঘাটতি ছিল ৩০ লাখ টন। তাৎক্ষণিক আমদানির মাধ্যমে এবং স্বল্প মেয়াদে উন্নত পদ্ধতিতে চাষাবাদ, উন্নত বীজ, সেচ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণ সরবরাহ করে এবং কৃষিঋণ মওকুফের সার্টিফিকেট মামলা প্রত্যাহার ও খাসজমি বিতরণ করে কৃষি ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের চেষ্টা করা হয়। বঙ্গবন্ধু ভারতের সঙ্গে গঙ্গার পানি বণ্টনের ফর্মুলা নির্ধারণে অত্যন্ত জোরদার উদ্যোগ নেন। এর ফলে ভাটির দেশ হিসেবে গঙ্গার পানির ৪৪ হাজার কিউসেক পানি পাওয়ার সম্মতি আদায় করেন। ১৯৬৮-৬৯ সালের ১১ হাজার শক্তিচালিত পাম্পের স্থলে ১৯৭৪-৭৫ সালে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৩৬ হাজার। এর ফলে সেচের আওতাধীন জমির পরিমাণ এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৬ লাখ একরে উন্নতি হয়। বাংলার কৃষককে সারে ভর্তুকি দিয়ে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু। গঙ্গা নদীর প্রবাহ থেকে বেশি পানি প্রাপ্তি, সেচ ব্যবস্থার প্রচার, উন্নত বীজ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহার, অতিরিক্ত খাসজমি প্রাপ্তি ও কৃষক দরদি নীতির ফলে কৃষিক্ষেত্রে অগ্রগতির যে ধারা সূচিত হয়েছিল তারই ফলে আজ কৃষিক্ষেত্রে শক্তিশালী ধারা বজায় রয়েছে।

আজ বঙ্গবন্ধু নেই, আছে তাঁর দর্শন, আদর্শ ও দিকনির্দেশনা। স্বল্পতম সময়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করে কৃষিকে ভিত্তি করে তিনি দেশ গড়ার যে ব্যাপক কর্মকাণ্ড শুরু করেছিলেন তার অন্তর্নিহিত আবেদনটি আজো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কৃষিক্ষেত্রে সেই অগ্রযাত্রায় ধারাবাহিকতা তার সুযোগ্য কন্যা, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রক্ষা করে আরো বেগবান করতে সক্ষম হয়েছেন। কৃষক বাঁচানোর জন্য যে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দরকার তা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সরকারের রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর কৃষকপ্রীতির কথা মনে রেখেই বর্তমান সরকার কৃষকদের জন্য স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। কৃষক বাঁচলেই দেশ বাঁচবে সে কথা জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বাস করেন। তাই গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণ ঘটেছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। সরকারের কৃষিবান্ধব নীতিকে সমর্থন দেয়ার জন্যই কৃষকদের ১০ টাকায় ব্যাংক হিসাব প্রদান, স্বল্প সুদে ঋণ, বর্গাচাষিসহ কৃষকদের জন্য ঋণের পরিমাণ কয়েকগুণ বাড়ানো, সারে ভর্তুকিসহ মসলা চাষ ও গাভী পালনে কৃষিঋণ প্রদানের নানা উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে কৃষক ও তাদের সন্তানরা সহজেই অর্থ লেনদেন করতে পারছে। উদ্দেশ্য কৃষকদরদি বঙ্গবন্ধুর চাওয়ার আলোকে বাংলাদেশের কৃষকদেরও আধুনিক সেবার অংশীদার করা।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্ব করোনা ভাইরাস সংক্রমণজনিত কারণে মহাসংকটের মধ্যে আছে। এটি বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করেছে। ফলে মানুষ তার দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড নিঃসকোচে করতে পারছে না। সর্বদাই আতঙ্ক বিরাজ করছে। যার প্রভাব দেশের অর্থনীতির ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে। ভাইরাসের বিশাল প্রভাব পড়েছে কৃষি এবং কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপরও। করোনা সংক্রমণের প্রভাবে দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক এমনকি রাজনৈতিক প্রভাব যে দীর্ঘমেয়াদি হবে তা নিশ্চিত করেই বলা যায়। এ পরিস্থিতিতে কৃষির উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও স্বল্প মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে কৃষি আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ। এখন সারা বিশ্বে অর্থনৈতিক স্থবিরতা এসে গেছে। দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে। এই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য নিজের দেশকেও যেমন বাঁচাতে হবে, পাশাপাশি অন্যান্য দেশকেও সাহায্য করতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশ সাহায্য চেয়েছে এবং আমরা তাদের জন্য খাদ্যশস্যও পাঠিয়েছি। সেজন্য এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অক্ষুণœ রাখতে অনাবাদি জমি চাষাবাদের উপযোগী করে উৎপাদন আরো বৃদ্ধি করতে হবে।

করোনা পরিস্থিতি এবং পরিবর্তিত জলবায়ুর প্রেক্ষাপটে টেকসই খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিতকরণে এবং আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতা পরবর্তীকালে যে সবুজ বিপ্লবের সূচনা করেছিলেন তা বর্তমান পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। পরিবর্তিত পরিবেশে কৃষির উন্নয়নে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনা এবং টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি নিশ্চিতকরণে কৃষি মন্ত্রণালয় তথা সরকার যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করাই হবে কৃষকদরদি বঙ্গবন্ধুর প্রতি সত্যিকার শ্রদ্ধা প্রদর্শন।


প্রফেসর ড. মু. আবুল কাসেম : শিক্ষাবিদ, গবেষক ও ভাইস চ্যান্সেলর, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর। প্রকাশিত হয়েছে: ভোরের কাগজ, আগস্ট ২৮, ২০২০